খালেদ আহমেদঃ
“সমাজে খারাপ কিছুর পরিচর্যা করতে হয় না, সেটা আগাছার মতো আপনাআপনি জন্ম নেয়। পরিচর্যা করতে হয় ভালো কাজের। ভালো কাজের প্রশংসা, সমর্থন ও লালন-পালন করতে হয়।” — এমন মন্তব্য করেছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পাবনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
“থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত অদেখা রোগীদের খুঁজে বের করি এবং তাদের পাশে দাঁড়াই” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১১টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি অডিটোরিয়ামে দিবসটি পালিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, “সুলতান আহম্মেদ নিজের সম্পদকে ব্যক্তিগত উপার্জনের জন্য ব্যবহার না করে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চান। এজন্য আমি তাকে অভিবাদন জানাই। আমি তার পাশে আছি। রোগীদের বলবো, আপনারা হতাশ হবেন না। সমাজ আমাদের পাশে থাকবে, আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন। আমাদের মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে হবে, যেন আমরা সবাই সবাইকে গ্রহণ করতে পারি এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”
সভাপতিত্ব করেন থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্ত, ব্যাগ, হাসপাতাল সেবাসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী আয়োজক সংগঠন প্রস্তাবিত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আহম্মেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) লিটন ঢালী, ড্যাব পাবনার সাধারণ সম্পাদক ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বৈশাখী, পাবনা জজ কোর্টের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী এবং সহকারী অধ্যাপক ও জুলাই যোদ্ধা শাবানা খাতুন।
প্রধান আলোচক ছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) সরোয়ার জাহান ফয়েজ।
বক্তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। রোগীদের নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয় এবং এজন্য বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্র পরিবারের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। তারা এই রোগের সুচিকিৎসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা চান। বক্তারা সরকারি উদ্যোগে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, দাতাদের সহায়তায় একটি ফান্ড গঠন এবং পাবনায় প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের দাবি জানান।
আলোচনায় উঠে আসে, থ্যালাসেমিয়া রোগে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রক্তের লোহিত কণিকা পৃথক করে শ্বেত কণিকা দিতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বর্তমানে পাবনায় নেই।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘসময় নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আহম্মেদ জানান, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সুচিকিৎসার লক্ষ্যে তিনি সদর উপজেলার মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি দান করেছেন। সরকারি সহযোগিতা ও অনুমোদন পেলে সেখানে হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শফিউদ্দিন মিয়া, সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান খোকন, সংগঠনের সদস্য আতাউর রহমান, রোগীর মা রাবেয়া খাতুন, রোগীর মা মনিরা খাতুন এবং আটঘরিয়া থেকে আগত থ্যালাসেমিয়া রোগী সুমাইয়া খাতুনসহ রোগীদের বাবা-মা, নানী ও স্বজনরা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত রোগীদের সঙ্গে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় কুমার বীর, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুসহ থ্যালাসেমিয়া রোগী, তাদের আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বার্তা সংস্থা ইউএনএসের বার্তা সম্পাদক ও সংগঠনের সমন্বয়কারী সাংবাদিক শামীম পারভেজ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন থ্যালাসেমিয়া রোগী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার অন্তরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শিশির ইসলাম।
নির্বাহী সম্পাদক: সফিক ইসলাম।
বার্তা সম্পাদক মোঃ রাজিব জোয়ার্দ্দার।
Copyright © 2024 Times Of Pabna