নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটিতে জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছেন পাবনার সদর পৌরসভার শালগাড়িয়ার সন্তান সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক।
সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত সমাজসেবা সম্পাদক পদপ্রার্থী অনিক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপি পরিবার থেকে উঠে আসা লোক প্রশাসন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক দীর্ঘ এক যুগ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।

পাবনায় কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় পাবনা জেলা ছাত্রদলের কর্মী হিসাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পাবনা শহরের ইন্দারা পট্টি ও কোর্টচত্ত্বর এলাকায় শিক্ষা ঐক্য প্রগতির পতাকাতলে মিছিল করেছেন। ২০১৪ সালে পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হাসান খান সুইটের নেতৃত্বে হরতাল-অবরোধ কর্মসুচি সফল করতে মিছিলে অংশগ্রহণকালে পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। ২০১৭ সালে পাবনা জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্মদিন পালন কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় আহত হন। ২০১৮ সালে পাবনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনার আজ্ঞাবহ পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এছাড়াও একই বছর শিক্ষার্থীদের আয়োজনে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে নেতাকর্মী নিয়ে জনমত গড়ে তোলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারির নেতা হিসাবে কর্মসুচি পালন করা শুরু করেন তিনি। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্তৃক বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার পর ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে অনিক। ২০২২ সালে ২৫ মে ছাত্রদলের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলকালে হাইকোর্ট মোড়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন তিনি।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার দায়ে হাসিনার আজ্ঞাবহ শাহাবাগ থানার তৎকালীন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জুলাই আগস্টের বর্ষা বিপ্লবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই থেকে পহেলা আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলাভবন থেকে শহীদ মিনার অভিমুখে মিছিলের নেতৃত্ব দেয় অনিক। ৫ই আগস্ট সকালে শাহবাগ থানার সামনে প্রথম ঝটিকা মিছিল নিয়ে যাত্রা শুরু করেন ছাত্রদল নেতা অনিক।
এ বিষয়ে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ডাকসু নির্বাচনে শহিদুল্লাহ হলের ভিপি পদপ্রার্থী মোঃ আশিকুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে ফুল টাইম জাতীয়তাবাদ আদর্শের রাজনীতি চর্চা করেন অনিক। ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ বলেন, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে বরাবর অনড় ছিলেন ছাত্রদল নেতা ইমাম হাসান অনিক। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের সাথে কখনো আঁতাত করে চলেনি। বেশকয়েকবার ক্যাম্পাসে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সামিউল আমিন গালিব বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বরাবরই জনমত তৈরীতে কৌশলী ভূমিকা পালন করেছে। মিছিল-মিটিং ও সকল কর্মসুচিতে সম্মুখ সারি থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। আগামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেখতে চাই।
উল্লেখ্য, সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ঢাবির অন্তর্ভুক্ত শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও গবেষণামূলক সংগঠনের সাথে জড়িত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শিশির ইসলাম।
নির্বাহী সম্পাদক: সফিক ইসলাম।
বার্তা সম্পাদক মোঃ রাজিব জোয়ার্দ্দার।
Copyright © 2024 Times Of Pabna