
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের মাধপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে বাঁচাতে গেলে তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও হামলার শিকার হন।
ভুক্তভোগী মোঃ হেলাল উদ্দিন (২৯) এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন মাধপুর গ্রামের মোঃ নাফি (২০), মোঃ মোজাম্মেল হক মিটু (৪৮), মোঃনাজিম উদ্দিন (৬০), মোঃ শাহিন হোসেন (৩০) ও মোছাঃ শ্যামলী খাতুন (৪০)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ৬ জুলাই ২০২৬ রাত প্রায় ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির প্রধান ফটক ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর শুরু করে।
হেলাল উদ্দিন বাধা দিলে, অভিযোগ অনুযায়ী, মোজাম্মেল হক মিটুর নির্দেশে নাফি লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং গুরুতর জখম হন। পরে অন্য অভিযুক্তরা লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে।
এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন হেলালের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা ইয়াসমিন (২৯)। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করে। একপর্যায়ে তার গলা থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১১ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া হামলার সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা মোছাঃ ফুটু ও মোঃ আতিউর রহমান সহ প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। পরর্বতীতে আহত হেলাল উদ্দিন কে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতা উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং পারিবারিক পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply