
টাইমস ডেস্কঃ
পাবনা জেলা শহরে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক ও নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ এর নির্দেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আকতার বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-৩৬)।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম (৩৮), মীর রাকিবুল ইসলাম সীমান্ত (২৭), যুবায়ের বিশ্বাস অন্তু (৩২), তৌশিকুর রহমান ওরফে রাজা ওরফে রাফা (২৮), মো. ইফাত আরাফাত ওরফে সিফাত (২৫), মো. অনিক (২৫), রনি (৪৫), রানা ওরফে ঘুইটা রানা (৪৫), কাজী অনিক (২৫), বিজন হোসেন (২৫) এবং নয়ন হোসেন (৪০) সহ মোট ৩৭ জন এজাহারনামীয় নেতাকর্মী।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত আনুমানিক ১২:১০ ঘটিকায় পাবনা পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের শালগাড়ীয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এবং মালিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, আসামিরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটানো এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
তথ্য পাওয়ার পর পাবনা সদর থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল রাত ১২:২৫ ঘটিকায় সদর হাসপাতালের রোড সংলগ্ন জাকিরের মোড়ের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের সাথে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটের টুকরো ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন মোটরসাইকেল যোগে ও দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি করে আসামিদের ফেলে যাওয়া ১টি চাইনিজ কুড়াল, ৩টি লোহার রড, ৩টি বাঁশের লাঠি এবং ২০টি ইটের টুকরো জব্দ তালিকা মূলে উদ্ধার করে। ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষী মো. শওকত হামিদ খান ওরফে বাবু ও মো. আরিফুল ইসলামের সামনে এই সমস্ত আলামত জব্দ করা হয়।
পাবনা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, অবৈধ সমাবেশ ও নাশকতার পরিকল্পনার অপরাধে আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশ ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে।
Leave a Reply