
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রগতিশীল সংস্কৃতি ও মননচর্চার প্ল্যাটফর্ম ‘আহ্বান’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো গান, আবৃত্তি ও আলোচনার বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ‘সুতীব্র চিৎকার।
৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সুকান্তের কবিতার চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতা, ক্ষুধা, বৈষম্য, শ্রমজীবী মানুষের জীবন, মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনাকে গান, কবিতা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুকান্তের কবিতার বিভিন্ন পঙ্ক্তি নিয়ে নির্মিত কোলাজ ‘সুতীব্র চিৎকার’-এর মধ্য দিয়ে তাঁর কবিতার দ্রোহ, স্বপ্ন ও মানবিক অঙ্গীকারের এক তীব্র আবহ তৈরি হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় সুকান্তের কবিতায় সুরারোপিত গান ও তাঁর বহুলপঠিত কবিতার আবৃত্তি। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রচলিত মঞ্চকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এক অন্তরঙ্গ বৈঠকী আসরের ঢঙে, যেখানে শিল্পী, আলোচক ও দর্শক-শ্রোতার মধ্যে তৈরি হয় সরাসরি সংযোগ।
অনুষ্ঠানে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন প্রফেসর ড. আব্দুর রউফ, কমরেড জাকির হোসেন, খন্দকার কাওসার আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, আবদুদ দাইয়ুন ও মশিউর রহমান। আলোচনায় উঠে আসে সুকান্তের কবিতায় ক্ষুধা ও বৈষম্যের বাস্তবতা, শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তাঁর দায়বোধ, মানবমুক্তির স্বপ্ন এবং বর্তমান বাংলাদেশ ও বিশ্ববাস্তবতায় তাঁর কবিতার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার নানা দিক।
গান ও কবিতায় অংশ নেন জান্নাতুল ফেরদৌস সৈতি, প্রজ্ঞা, স্মরণ, হিমেল রানা, বংকেশ সরকার, বাবলা ওয়াজেদ, রবিন বিশ্বাস, ফারহানা, তাহাসিনা, বিশ্বজিৎ ও রোকেয়া। তাঁদের পরিবেশনায় সুকান্তের কবিতা কখনো হয়ে ওঠে ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তি, কখনো প্রতিবাদের মিছিল, কখনো ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকার, আবার কখনো মানবিক ভালোবাসা ও স্বপ্নের উচ্চারণ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মির্জা রানা। তাঁর সঞ্চালনায় প্রতিটি পরিবেশনার সঙ্গে সুকান্তের কবিতার ভাব, সময় ও বর্তমান বাস্তবতার একটি সেতুবন্ধ তৈরি হয়। পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় ছিলেন ডা. জোবায়ের তানভীর ও তিমির হায়দার।
Leave a Reply