
শহর প্রতিনিধিঃ
পাবনা সদর উপজেলার সিঙ্গা, লস্করপুর, তালবাগান ও স্টেশন এলাকায় একদিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১১ জন হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিশু সন্তানের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে ৮ জন গুরুত্বর আহত অবস্থায়
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং অপর ৩ জনকে
ভ্যাকসিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারি
পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় খবর এলো হাসপাতালে কুকুরের কামড়ে আহত বেশকিছু রোগী এসেছে। দ্রুত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো
রোগীর জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। এবং তাদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীনের মধ্যে রয়েছে- পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর এলাকার রফিকের ছেলে রাকিবুল (৯), সদর উপজেলার তালবাগান
এলাকার আরমনের ছেলে আরাফাত (৭), একই উপজেলার হাবিবুল্লাহ (৩৪),
লস্করপুরের কুদরতের ছেলে রায়হান (৭), মজিবর এর স্ত্রী জাহিদা (৫৫),
সিঙ্গা এলাকার বাচ্চুর ছেলে সিফাত (১০), লস্করপুরের বকুলের ছেলে তাওহিদ
(৬) ও একই গ্রামের শফিকুলের ছেলে নয়ন (১৭)।
আহত ও স্বজনরা জানান হঠাৎ মঙ্গলবার বিকেলে কুকুর স্বাভাবিকভাবে যাচ্ছিলো মনে করেছি আমরা একপাশে দাড়িয়ে আছি পাশ দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে আক্রমণ করে বসে। চআমি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ধাওয়া করলে পালিয়ে যায়। কিন্তু শুনেছি যাওয়ার সময় যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়ায়। এতে করে হাসপাতালে ১৩ জন চিকিৎসা নিতে আসে। হাসপাতালে রোগীর সাথে আসা স্বজনেরা বলেন পাবনা পৌর এলাকায় কুকুরের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সরকারিভাবে কুকুর নিধন বা ভ্যাকসিন এর ব্যবস্তা না করায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কুকুরের ভয়ে রাস্তায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পরেছে। বিশেষ করে শিশুরা একা চলতে গেলেই কুকুরের আক্রমণ এর শিকার হচ্ছে। এবিষয়ে পাবনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন বলেন পৌরসভা কর্তৃক কুকুর নিধন বা ভ্যাকসিন দেওয়ার কোন বিধান নেই সরকারিভাবে। আমরা আসলে কি করবো এমন কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। আগে কুকুর নিধন ও ভ্যাকসিন এর ব্যবস্থা থাকলেও তা এখন নেই।
তবে সচেতন নাগরিক মনে করেন জরুরি ভিত্তিতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন না হলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটবে আমরা চাই দ্রুত এ বিষয়ে সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
Leave a Reply